Bengali Archives - Asia Commune https://asiacommune.org/category/bengali/ Equality & Solidarity Mon, 17 Nov 2025 21:04:22 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.9.1 https://asiacommune.org/wp-content/uploads/2025/05/cropped-New_Logo_02-32x32.png Bengali Archives - Asia Commune https://asiacommune.org/category/bengali/ 32 32 Bangladesh: The Contemporary Political Situation (2024–2025) https://asiacommune.org/2025/11/17/bangladesh-the-contemporary-political-situation-2024-2025/ Mon, 17 Nov 2025 21:04:19 +0000 https://asiacommune.org/?p=11161 By Badrul Alam13 November 2025, Dhaka

The post Bangladesh: The Contemporary Political Situation (2024–2025) appeared first on Asia Commune.

]]>

By

Badrul Alam
13 November 2025, Dhaka

Loading

The post Bangladesh: The Contemporary Political Situation (2024–2025) appeared first on Asia Commune.

]]>
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি: পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে এক সমাজ https://asiacommune.org/2025/11/10/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%b0%e0%a6%be/ Mon, 10 Nov 2025 23:55:47 +0000 https://asiacommune.org/?p=11129 বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি: পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে এক সমাজ বাংলাদেশের রাজনীতি আজ এমন এক সংকটময় অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে রাষ্ট্র, সমাজ, অর্থনীতি এবং জনমতের সব স্তরে অনিশ্চয়তা, বিভাজন এবং হতাশার ছায়া বিরাজ করছে। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়েও দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেমন পরিণত হওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে তা হয়নি। বর্তমান রাজনীতি একদিকে ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন ও দলীয় একচ্ছত্র প্রভাবের মধ্যে বন্দি, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থাহীনতা, অবিশ্বাস এবং রাজনৈতিক অনাগ্রহের গভীর ছায়ায় আচ্ছন্ন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বোঝার জন্য শুধু দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং সমাজবিন্যাস, রাষ্ট্রব্যবস্থা, প্রশাসনিক কাঠামো, গণমাধ্যম, অর্থনৈতিক বৈষম্য…

The post বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি: পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে এক সমাজ appeared first on Asia Commune.

]]>

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি: পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে এক সমাজ

বাংলাদেশের রাজনীতি আজ এমন এক সংকটময় অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে রাষ্ট্র, সমাজ, অর্থনীতি এবং জনমতের সব স্তরে অনিশ্চয়তা, বিভাজন এবং হতাশার ছায়া বিরাজ করছে। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়েও দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেমন পরিণত হওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে তা হয়নি। বর্তমান রাজনীতি একদিকে ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন ও দলীয় একচ্ছত্র প্রভাবের মধ্যে বন্দি, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থাহীনতা, অবিশ্বাস এবং রাজনৈতিক অনাগ্রহের গভীর ছায়ায় আচ্ছন্ন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বোঝার জন্য শুধু দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং সমাজবিন্যাস, রাষ্ট্রব্যবস্থা, প্রশাসনিক কাঠামো, গণমাধ্যম, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং তরুণ প্রজন্মের মানসিক অবস্থা—সব দিকের বিশ্লেষণ জরুরি। এই প্রেক্ষাপট বোঝার জন্য ২০১৮ সালের নির্বাচন, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাধীনতা পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাস

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ একটি নতুন রাষ্ট্র হিসেবে স্বাধীনতা লাভ করেছিল। স্বাধীনতার প্রাথমিক দশকে দেশ গঠনের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং সমাজের বিভাজন দূরীকরণ। তৎকালীন শাসকশ্রেণির নেতৃত্বে দেশের রাজনীতি সামাজিক ন্যায়, সমবায় এবং জনগণের অংশগ্রহণের দিকে কিছুটা এগোচ্ছিল যদিও তার শেষটা ছিল নৈরাজ্যকর, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষ জর্জরিত। 

কিন্তু ১৯৭৫ সালের আগস্টে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের দেশের রাজনৈতিক গতিশীলতা হঠাৎ থেমে যায়। পরবর্তী বছরগুলোতে সামরিক হস্তক্ষেপ, রাষ্ট্রের কেন্দ্রীকরণ, দলীয় ক্ষমতার স্থিতিশীলতা এবং বিরোধীদের ওপর দমনপ্রবণতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে দেশ বারবার সেনাশাসন এবং সাময়িক সরকারের পরিবর্তন দেখেছে। এই প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সহিংসতা, বিভাজন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধারাবাহিক ধারা তৈরি করেছে।

১৯৯১ সালে গণতান্ত্রিক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা হলেও রাজনীতির কেন্দ্রীকরণ, ক্ষমতার একচ্ছত্র দখল, এবং বিরোধী দলের ওপর মামলা-গ্রেপ্তার ও প্রশাসনিক চাপের ধারা অব্যাহত রয়েছে। বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেশের রাজনীতিকে দখল করে রেখেছে, যেখানে নির্বাচনের প্রকৃত অর্থ—জনগণের অংশগ্রহণ এবং প্রভাব—ক্রমশ কমে যাচ্ছে।

নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও একতরফা রাজনীতি

২০১৮ সালের নির্বাচনের পর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া একটি বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হয়। নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ এবং নির্বাচন কমিশনের সীমিত সক্ষমতা নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করে। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি এবং অন্যান্য বিরোধী দল অংশগ্রহণ না করে দাবি করে যে সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। ফলস্বরূপ, আওয়ামী লীগ একতরফা বিজয় অর্জন করে এবং সংসদে কার্যত কোনো কার্যকর বিরোধী দল ছিল না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে ‘নির্বাচনী গণতন্ত্রের ছায়া’ বলে অভিহিত করেছেন—যেখানে নির্বাচন আছে, কিন্তু ভোটারদের অংশগ্রহণ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং জবাবদিহিতা প্রায় অনুপস্থিত। নির্বাচন কেবল আনুষ্ঠানিকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক উদ্দীপনা এবং আস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

নির্বাচনের বিশদ বিশ্লেষণ দেখায় যে, ভোটার অংশগ্রহণ কমে গেছে, ভোটকেন্দ্রে প্রভাব রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন প্রায়শই পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী রাজনৈতিক দলের প্রভাবের মধ্যে। ফলে নির্বাচনের প্রকৃত অর্থ—জনগণের অংশগ্রহণ এবং প্রভাব—ক্রমশ হারাচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা ও সীমাবদ্ধতা

২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সংবিধান অনুযায়ী একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল নির্বাচনের স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপন এবং রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। তারা মূলত “অস্থায়ী প্রশাসক” হিসেবে কাজ করেছে। 

অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমের মধ্যে ছিল:

প্রশাসনিক তদারকি ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ

ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি

নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয়

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ

তবে ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন ও রাজনৈতিক চাপের কারণে তাদের কার্যক্রম প্রায়শই সীমিত ছিল। প্রশাসনিক কাঠামো ও নিরাপত্তা বাহিনী এখনও মূল রাজনৈতিক দলের প্রভাবের মধ্যে থাকায়, অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম প্রায়শই আনুষ্ঠানিকতার মাত্রা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।

সামাজিক আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছে, অন্তর্বর্তী সরকার স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি। প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা, দলীয় প্রভাব এবং রাজনৈতিক চাপ অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকারিতাকে প্রায়শই সীমিত করেছে।

গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও আস্থা

বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা দুর্বল করেছে। সংসদ, নির্বাচন কমিশন, বিচারব্যবস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গণমাধ্যম—সবই রাজনৈতিক দলের প্রভাবের বাইরে নয়। ফলে জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক বিকল্পের অভাব সৃষ্টি হয়েছে। নাগরিক সমাজের একটি অংশ মনে করে, রাষ্ট্র ক্রমে একটি নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রের মডেলে রূপ নিয়েছে—যেখানে বিরোধিতার স্থান সীমিত, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত, এবং প্রশাসন দলীয় শাসন রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আস্থাহীনতা শুধু ভোট প্রক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিচার ব্যবস্থার ধীরগতি, সাংবাদিকদের ওপর চাপ, এবং সামাজিক আন্দোলনের দমন প্রক্রিয়ার মধ্যেও দেখা যায়। ফলে জনগণ রাজনৈতিক সংলাপে অংশগ্রহণে অনীহা প্রকাশ করছে।

অর্থনীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব

বাংলাদেশের অর্থনীতি বিগত এক দশকে প্রশংসনীয় অগ্রগতি দেখিয়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধি অসম উন্নয়ন, বৈষম্য এবং সম্পদের কেন্দ্রীভূতির উপর ভিত্তি করে। বৈদেশিক ঋণনির্ভর অবকাঠামো প্রকল্প, রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প এবং প্রবাসী আয়—এই তিনটি অর্থনৈতিক স্তম্ভ দেশের সম্পদকে সীমিত গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত করছে।

ধনী-গরিব ব্যবধান বৃদ্ধি, শহর-গ্রামের বৈষম্য, এবং সম্পদের অভ্যন্তরীণ কেন্দ্রীভূতি রাজনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। রাজনীতি ক্রমশ ব্যবসায়িক বিনিয়োগের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ভোটার বা সমর্থকের ভূমিকায় সীমিত। রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতা ধরে রাখতে এবং নির্বাচনী সুবিধা অর্জনের জন্য আর্থিক ও প্রশাসনিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। ফলে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা জনগণের প্রয়োজন ও দাবি থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।

অর্থনৈতিক বৈষম্য শুধু রাজনৈতিক প্রভাবই নয়, সামাজিক অস্থিরতার সূচনা করেছে। অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বৈষম্য, গ্রামীণ ও শহুরে জীবনের মধ্যে পার্থক্য, এবং প্রাথমিক শিক্ষার অভাবের কারণে সামাজিক সংহতি কমে যাচ্ছে।

তরুণ প্রজন্ম ও সামাজিক পরিবর্তন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তরুণ প্রজন্ম ক্রমশ বিমুখ হচ্ছে। একদিকে তারা রাজনৈতিক দল ও প্রচলিত আন্দোলনে অংশগ্রহণ কমাচ্ছে, অন্যদিকে সামাজিক, পরিবেশগত, এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সক্রিয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একসময় রাজনৈতিক চিন্তা ও আন্দোলনের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৭০-৮০-এর দশকে ছাত্রসংগঠনগুলো মূলত দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের চালিকা শক্তি ছিল। ছাত্র আন্দোলন, শিক্ষার অধিকার, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা—সব ক্ষেত্রেই তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

আজকের তরুণদের রাজনৈতিক দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা রাজনীতি মানে হিসেবে বর্ণনা করছে—দলবাজি, দুর্নীতি, ক্ষমতার লোভ এবং সহিংসতা। এই ধরণের অবমূল্যায়নের কারণে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ কমেছে। তবে সামাজিক মাধ্যম, যেখানে রাজনৈতিক আলোচনা প্রবল, অনেক সময় বিভাজন, ঘৃণা এবং প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে তরুণরা রাজনৈতিক আলাপের সংস্কৃতিকে আবেগ ও মেরুকরণের দিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে।

তবুও, এই প্রজন্ম সামাজিক ও পরিবেশগত আন্দোলনে সক্রিয়। তারা নারী অধিকার, জলবায়ু ন্যায্যতা, স্থানীয় উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত। ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং সামাজিক মাধ্যম তাদেরকে প্রচলিত দলীয় কাঠামোর বাইরে থেকে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে। এতে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের নতুন রূপ, নতুন ধারণা এবং উদ্ভাবনী পদ্ধতি জন্ম নিচ্ছে।

বিরোধী দল ও রাজনৈতিক ভারসাম্য

বর্তমান বাংলাদেশে বিরোধী দলগুলোর রাজনীতি এক ধরনের অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। বিএনপি দীর্ঘদিন রাজনৈতিকভাবে দুর্বল, নেতৃত্বের সংকট, মামলা-গ্রেপ্তার, সাংগঠনিক অচলাবস্থা এবং জনসংযোগের ঘাটতি তাদের কার্যক্রমকে প্রায় স্থবির করে রেখেছে। আন্দোলনের ডাক দিলেও মাঠে কার্যকর উপস্থিতি সীমিত। জনগণের মধ্যে যে হতাশা ও ক্ষোভ রয়েছে, তা এখনও কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক বিকল্পে রূপ নিতে পারেনি।

ইসলামপন্থী রাজনীতি, বিশেষত জামায়াত ইসলামি, বর্তমানে বৈধ রাজনৈতিক দল হিসেবে অংশগ্রহণ করছে। তারা ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করে কিছু অংশে প্রভাব বজায় রাখছে, তবে বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাদের প্রভাব সীমিত। জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায়শই সামাজিক মিডিয়া এবং প্রবাসভিত্তিক নেটওয়ার্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

বাম দলগুলোও —যারা স্বাধীনতার পর থেকে সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির ধারক ছিল—প্রায় প্রান্তিক। সংগঠন ও নেতৃত্বের দুর্বলতা এবং জনগণের সঙ্গে সংযোগের অভাব তাদের প্রভাবকে সীমিত করেছে। তবুও শ্রমিক আন্দোলন, কৃষি ও পরিবেশ আন্দোলনের ক্ষেত্রে তারা নীতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক প্রভাব

বর্তমান সরকার দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের বার্তা প্রচার করছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু টানেল, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের মতো সাফল্য সরকারকে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

আন্তর্জাতিক পরিসরেও বাংলাদেশ কূটনীতি, শান্তিরক্ষা এবং আঞ্চলিক সংলাপে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এই উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের আড়ালে মানবাধিকার লঙ্ঘন, ভিন্নমত দমন এবং প্রশাসনের অতিরিক্ত রাজনৈতিকীকরণ চলছে। নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের পর সাংবাদিক ও নাগরিকদের উদ্বেগ বেড়েছে।

সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পর্যালোচনা বলছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সফলতার সঙ্গে রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং নাগরিক অধিকার সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জও সমান্তরালভাবে বেড়ে চলেছে। এতে দেশের আন্তর্জাতিক ইমেজ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও নাগরিক অংশগ্রহণ

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ক্রমশ “নির্বাচনবিহীন রাজনীতি”-র দিকে ধাবিত হচ্ছে। নির্বাচন শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা, ক্ষমতার স্থানান্তর প্রায় অনুপস্থিত। দীর্ঘমেয়াদে এই অবস্থা গণতন্ত্রের মৌলিক ধারণাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, নাগরিক অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।

অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা এই প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। তারা প্রাথমিকভাবে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে কাজ করেছে। প্রশাসনিক তদারকি, ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে তারা চেষ্টা করেছে নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার। তবে রাজনৈতিক চাপ, দলীয় প্রভাব এবং প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে এই উদ্যোগ সীমিতভাবে কার্যকর হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সীমাবদ্ধতা ও প্রভাব

অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের সময় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করলেও তাদের কার্যক্রম প্রায়শই আনুষ্ঠানিকতার স্তরে সীমাবদ্ধ। প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর দলীয় প্রভাব, বিরোধী দলের অসহযোগিতা এবং রাজনৈতিক চাপ তাদের কার্যকারিতাকে সীমিত করেছে। ফলে নাগরিক আস্থা পূর্ণরূপে পুনঃস্থাপিত হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এই সীমিত কার্যক্রম রাজনৈতিক সংলাপ এবং স্থিতিশীলতা অর্জনের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করেছে।

ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

২০২৫ সালের বাস্তবতায় বাংলাদেশের রাজনীতির সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট।

১. গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন: নির্বাচন, বিচারব্যবস্থা এবং প্রশাসনকে জনগণের আস্থায় ফিরিয়ে আনা। নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন, স্বচ্ছ এবং রাজনৈতিক চাপমুক্ত করা। বিচারব্যবস্থায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনের কার্যক্রমকে দলীয় প্রভাব থেকে মুক্ত করা।

২. অর্থনৈতিক বৈষম্য ও দুর্নীতি মোকাবিলা: ধনী-গরিবের ব্যবধান হ্রাস, শহর-গ্রামের বৈষম্য সমন্বয়, এবং অর্থনীতিতে রাজনৈতিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা। বৈদেশিক ঋণনির্ভর প্রকল্প, রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প এবং প্রবাসী আয় কেন্দ্রীভূত করার পরিবর্তে জনগণের বৃহত্তর কল্যাণে অর্থনীতিকে ব্যবহার করা।

৩. রাজনীতির নৈতিক ভিত্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা: রাজনীতি যেন কেবল ক্ষমতা ও সম্পদের প্রতিযোগিতা না হয়ে সমাজের সেবা এবং জনস্বার্থের মাধ্যম হয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের কল্যাণ এবং ন্যায়বিচারের প্রতি দায়বদ্ধ করা।

ভবিষ্যতের রাজনীতি ও তরুণ প্রজন্ম

ডিজিটাল যুগের তরুণ প্রজন্ম সামাজিক উদ্যোগ, উদ্যোক্তা কার্যক্রম, নারী অধিকার, জলবায়ু ন্যায্যতা এবং স্থানীয় উন্নয়নে সক্রিয়। তারা প্রচলিত দলীয় কাঠামোর বাইরে থাকলেও সামাজিক পরিবর্তনে আগ্রহী। এই প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে রাজনীতিতে নতুন ধারা সৃষ্টি করতে পারে।  

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একসময় রাজনৈতিক চিন্তা ও আন্দোলনের কেন্দ্র ছিল। বর্তমানে ছাত্রসংগঠনগুলোর কার্যক্রম সীমিত। সামাজিক মাধ্যম রাজনৈতিক আলোচনা প্রায়শই বিভাজন, ঘৃণা এবং প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। তবে একই সময়ে এটি তরুণদের জন্য রাজনৈতিক সচেতনতা এবং স্থানীয় উদ্যোগে অংশগ্রহণের নতুন মাধ্যম হিসেবেও কাজ করছে।

সমাপনী: রাজনৈতিক আত্মসমালোচনা ও নতুন সূচনা

বাংলাদেশের রাজনীতি আজ এক ধরনের আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষকেই ভাবতে হবে—রাজনীতি কাকে ঘিরে? ক্ষমতা না কি মানুষকে? উন্নয়ন কি শুধুই অবকাঠামো, না কি নাগরিক মর্যাদা ও স্বাধীনতারও উন্নয়ন?

আজকের বাংলাদেশ ইতিহাসের এক মোড়ে—যেখানে অতীতের সংগ্রাম ও বর্তমান বাস্তবতার মাঝে ভবিষ্যতের রাজনীতির বীজ রোপিত হচ্ছে। এই বীজকে লালন করতে পারলেই দেশ এগোতে পারবে নতুন রাজনৈতিক পরিণতির পথে, যেখানে শাসন, বিরোধিতা, স্বাধীনতা এবং ন্যায় একসঙ্গে সহাবস্থান করবে।

বাংলাদেশের রাজনীতি এমন এক পর্যায়ে এসেছে যেখানে রাজনৈতিক সংলাপ, নাগরিক অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা এবং সামাজিক উদ্যোগ একত্রিত হলে দেশকে একটি স্থিতিশীল, অংশগ্রহণমূলক এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করা সম্ভব। অন্তর্বর্তী সরকারের সীমাবদ্ধ হলেও তাদের কার্যক্রম প্রমাণ করেছে যে স্বচ্ছ প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টি করা যায়।

ভবিষ্যৎ রাজনীতি এই দিশায় এগিয়ে গেলে বাংলাদেশ কেবল অর্থনৈতিকভাবে সফল নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রও হয়ে উঠবে।

লেখক: বদরুল আলম

তারিখ: ১০ নভেম্বর ২০২৫

স্থান: ঢাকা

Loading

The post বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি: পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে এক সমাজ appeared first on Asia Commune.

]]>
মহান অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ও লিওন ট্রটস্কির ভূমিকা https://asiacommune.org/2025/11/10/%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%85%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0/ Mon, 10 Nov 2025 06:04:46 +0000 https://asiacommune.org/?p=11115 মহান অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ও লিওন ট্রটস্কির ভূমিকা ভূমিকা: ২০শ শতাব্দীর সূচনালগ্ন ও রাশিয়ার সমাজ–অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্ব ইতিহাসের মোড় ঘুরে গিয়েছিল ১৯১৭ সালের অক্টোবর মাসে। সেই বিপ্লব কেবল একটি দেশের রাজনৈতিক পালাবদল নয়, বরং মানবসভ্যতার দিকনির্দেশ পাল্টে দিয়েছিল। ইতিহাসে একে বলা হয় মহান অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব—যা প্রথমবারের মতো শ্রমিক শ্রেণীর হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা এনে দেয়, ব্যক্তিমালিকানার শৃঙ্খল ভেঙে সমাজতান্ত্রিক সমাজ গঠনের প্রথম পদক্ষেপ তৈরি করে। এর কেন্দ্রে ছিলেন ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন, আর তার কৌশলগত সংগঠন ও বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন লিওন ট্রটস্কি। রাশিয়ার সাম্রাজ্যবাদী সমাজে তখন শোষণ, বৈষম্য ও দুর্ভিক্ষ…

The post মহান অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ও লিওন ট্রটস্কির ভূমিকা appeared first on Asia Commune.

]]>

মহান অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ও লিওন ট্রটস্কির ভূমিকা

ভূমিকা: ২০শ শতাব্দীর সূচনালগ্ন ও রাশিয়ার সমাজ–অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট

বিশ্ব ইতিহাসের মোড় ঘুরে গিয়েছিল ১৯১৭ সালের অক্টোবর মাসে। সেই বিপ্লব কেবল একটি দেশের রাজনৈতিক পালাবদল নয়, বরং মানবসভ্যতার দিকনির্দেশ পাল্টে দিয়েছিল। ইতিহাসে একে বলা হয় মহান অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব—যা প্রথমবারের মতো শ্রমিক শ্রেণীর হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা এনে দেয়, ব্যক্তিমালিকানার শৃঙ্খল ভেঙে সমাজতান্ত্রিক সমাজ গঠনের প্রথম পদক্ষেপ তৈরি করে। এর কেন্দ্রে ছিলেন ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন, আর তার কৌশলগত সংগঠন ও বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন লিওন ট্রটস্কি।

রাশিয়ার সাম্রাজ্যবাদী সমাজে তখন শোষণ, বৈষম্য ও দুর্ভিক্ষ ছিল নিত্যসঙ্গী। কৃষকরা জমিদারদের দাসত্বে ক্লান্ত, শ্রমিকরা কারখানায় ১২-১৪ ঘণ্টা কাজ করেও অন্ন পেত না। সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ (প্রথম বিশ্বযুদ্ধ) রাশিয়ার অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেয়, কোটি কোটি সৈন্য নিহত ও ক্ষুধার্ত কৃষক-শ্রমিকরা দেশে ফিরে দেখে—শাসকেরা আগের মতোই মদ্যপান করছে, কিন্তু জনগণ মরে যাচ্ছে রুটি ও শান্তির অভাবে। এই পরিস্থিতিই রাশিয়ায় বিপ্লবের বীজ রোপণ করে।

জারতন্ত্র, সাম্রাজ্যবাদ ও শ্রমিক শ্রেণীর উত্থান

১৯শ শতাব্দীর শেষ থেকে রাশিয়ার পুঁজিবাদ দ্রুত বিকশিত হচ্ছিল। বিশাল কারখানা, রেলপথ, খনি ও শিল্পকেন্দ্র গড়ে ওঠে—বিশেষত পেত্রোগ্রাদ (পূর্বতন সেন্ট পিটার্সবার্গ), মস্কো, ও উরাল অঞ্চলে। কিন্তু এই বিকাশ মূলত বিদেশি মূলধননির্ভর ছিল—ফরাসি, ব্রিটিশ ও জার্মান পুঁজিপতিরা রাশিয়াকে অর্ধ-উপনিবেশে পরিণত করেছিল। ফলে রাশিয়ার শ্রমিক শ্রেণী দ্রুত সংহত হতে থাকে, একইসাথে দারিদ্র্য ও শ্রেণীবিরোধ তীব্র হয়।

১৯০৫ সালের বিপ্লব রাশিয়ার প্রথম বৃহৎ রাজনৈতিক জাগরণ। সে বছর শ্রমিকরা “রুটি, শান্তি ও স্বাধীনতা”র দাবিতে রক্তাক্ত আন্দোলন চালায়। “ব্লাডি সানডে”–তে রাজা দ্বিতীয় নিকোলাসের সৈন্যরা নিরস্ত্র শ্রমিকদের গুলি করে হত্যা করে। কিন্তু এই ব্যর্থ বিপ্লবও ছিল পরবর্তী বিপ্লবের “রিহার্সাল”—যেমন লেনিন পরবর্তীতে বলেছিলেন। সেই ১৯০৫-এই প্রথম গঠিত হয়েছিল “সোভিয়েত”—অর্থাৎ শ্রমিক পরিষদ—যা পরে অক্টোবর বিপ্লবের সময় রাষ্ট্রের প্রাথমিক রূপে পরিণত হয়।

ফেব্রুয়ারি বিপ্লব ও দ্বৈত ক্ষমতার জন্ম

১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে জারতন্ত্র ভেঙে পড়ে। নারীরা রুটি চেয়ে মিছিলে নামে, শ্রমিকরা ধর্মঘট করে, সৈন্যরা বিদ্রোহে যোগ দেয়। এভাবেই প্রতিষ্ঠিত হয় “অস্থায়ী সরকার”—যার নেতৃত্বে ছিল বুর্জোয়া ও উদারপন্থীরা। কিন্তু একইসাথে শ্রমিক-সৈন্যদের হাতে গড়ে ওঠে পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েত, অর্থাৎ এক বিকল্প ক্ষমতার কেন্দ্র। এর ফলে সৃষ্টি হয় “দ্বৈত ক্ষমতা” (Dual Power)—একদিকে অস্থায়ী বুর্জোয়া সরকার, অন্যদিকে শ্রমিকদের সোভিয়েত।

অস্থায়ী সরকার জনতার কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল শান্তি, ভূমি ও রুটি; কিন্তু তারা যুদ্ধ চালিয়ে যায়, জমিদারদের স্বার্থ রক্ষা করে, আর কৃষক ও শ্রমিকদের দাবিকে উপেক্ষা করে। এই অবস্থায় বিপ্লবী পরিস্থিতি পরিপূর্ণভাবে পরিণত হচ্ছিল, কেবল দরকার ছিল সঠিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব—যে নেতৃত্ব এই দ্বন্দ্বকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাবে।

বলশেভিক পার্টি, লেনিনের “এপ্রিল থিসিস” ও বিপ্লবের দিকনির্দেশ

লেনিন নির্বাসন থেকে ফেরেন এপ্রিল ১৯১৭-এ। ফিনল্যান্ড স্টেশনে তাঁর বিখ্যাত বক্তৃতায় তিনি বলেন—“সমস্ত ক্ষমতা সোভিয়েতের হাতে!” তাঁর “এপ্রিল থিসিস” ছিল বলশেভিক কৌশলের মোড় ঘোরানো ঘোষণা। সেখানে তিনি বলেন:

১) যুদ্ধ বন্ধ করে অবিলম্বে শান্তি স্থাপন,

২) জমিদারদের জমি কৃষকদের হাতে হস্তান্তর,

৩) ব্যাংক ও শিল্পকে রাষ্ট্রায়ত্তকরণ,

৪) বুর্জোয়া সংসদ নয়, বরং সোভিয়েত রাষ্ট্রব্যবস্থা।

লেনিন বুঝেছিলেন, অস্থায়ী সরকার জনগণের নয়—এটি বুর্জোয়া স্বার্থের ধারক। কিন্তু একইসময়ে তিনি জানতেন, বিপ্লব শুধু ইচ্ছায় ঘটে না; এর জন্য চাই সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দিকনির্দেশ, সংগঠন ও কৌশল। এই পর্যায়েই ট্রটস্কির ভূমিকা ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ট্রটস্কির রাজনৈতিক ও সংগঠনমূলক ভূমিকা

লিওন ট্রটস্কি (১৮৭৯–১৯৪০) ছিলেন মার্ক্সবাদী চিন্তাবিদ, বিপ্লবী কৌশলবিদ ও পরবর্তীতে লাল বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ১৯০৫ সালের বিপ্লবে পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েতের সভাপতি ছিলেন, এবং তখন থেকেই তাঁর তত্ত্ব ছিল—“অবিরত বিপ্লব” (Permanent Revolution)—যেখানে তিনি যুক্তি দেন যে, অর্ধ-সামন্তবাদী সমাজে বুর্জোয়া বিপ্লব অসম্পূর্ণ থাকবে যতক্ষণ না শ্রমিক শ্রেণী ক্ষমতা গ্রহণ করে এবং সমাজতান্ত্রিক রূপান্তর ঘটায়।

এই তত্ত্বটি পরে অক্টোবর বিপ্লবে বাস্তব রূপ লাভ করে। ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বুর্জোয়া বিপ্লব হলেও, এর অব্যবস্থাপনা ও অস্থিরতা শ্রমিকদের সামনে এক নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত করে। ট্রটস্কি বলেন, “বিপ্লবের গতি কখনো থেমে থাকে না; এটি অবিরাম অগ্রসর হতে থাকে, যতক্ষণ না সমাজের সমস্ত দমন ও শোষণ বিলুপ্ত হয়।”

ট্রটস্কি ১৯১৭ সালের মে মাসে রাশিয়ায় ফিরে আসেন এবং দ্রুত বলশেভিকদের সঙ্গে যোগ দেন। জুলাই মাসে তিনি পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েতের সভাপতি নির্বাচিত হন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও বক্তৃতা ছিল অসাধারণ। বিপ্লবের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে তিনি ছিলেন “সামরিক–বিপ্লবী কমিটি”র (Military Revolutionary Committee) প্রধান, যা অক্টোবর বিপ্লবের বাস্তবায়নের মূল কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

অক্টোবর বিপ্লব: ঘটনাপ্রবাহ ও সশস্ত্র অভ্যুত্থান

১৯১৭ সালের অক্টোবর (রাশিয়ার পুরনো ক্যালেন্ডারে ২৫ অক্টোবর, নতুন ক্যালেন্ডারে ৭ নভেম্বর) রাতে ইতিহাসের সেই মহান মুহূর্ত আসে। পেত্রোগ্রাদে বলশেভিক নেতৃত্বাধীন সোভিয়েত বাহিনী একে একে টেলিগ্রাফ অফিস, ব্যাংক, ব্রিজ, স্টেশন, এবং সরকারি ভবন দখল করতে থাকে। অস্থায়ী সরকার ছিল প্রায় বিচ্ছিন্ন ও নিস্তেজ। ট্রটস্কির নেতৃত্বে সামরিক–বিপ্লবী কমিটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পুরো অভিযান পরিচালনা করে।

লেনিন তখন গোপনে পেত্রোগ্রাদে অবস্থান করছিলেন; বিপ্লবের রাতে তিনি স্মলনি ইনস্টিটিউটে উপস্থিত হয়ে ঘোষণা দেন—“কর্মীদের এবং কৃষকদের বিপ্লব সফল হয়েছে!” ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি শ্রমিক–কৃষক–সৈন্য সোভিয়েত সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। পরের দিন বলশেভিকরা ঘোষণা করে:

* সমস্ত জমি কৃষকদের মধ্যে বণ্টন করা হবে,

* যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করা হবে,

* শ্রমিকদের জন্য ৮ ঘণ্টার কর্মদিবস চালু হবে,

* রাষ্ট্রব্যবস্থা হবে সোভিয়েত গণতন্ত্রভিত্তিক।

অক্টোবর বিপ্লব প্রমাণ করেছিল যে, সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব কেবল স্বপ্ন নয়—এটি ইতিহাসের অবধারিত ধারা

শ্রমিক-সোভিয়েত রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ও প্রথম পদক্ষেপ।

লেনিনের নেতৃত্বে গঠিত হয় “জনকমিসারদের পরিষদ” (Council of People’s Commissars), যার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন ট্রটস্কি—তিনি ছিলেন বিদেশ বিষয়ক কমিশার। তাঁর দক্ষ কূটনীতি ব্রেস্ট-লিতভস্ক চুক্তির (১৯১৮) মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ করে রাশিয়াকে সাম্রাজ্যবাদী সংঘাত থেকে মুক্তি দেয়। যদিও এই চুক্তি ছিল কঠিন ও অসম, তবু এটি বিপ্লবী রাষ্ট্রকে রক্ষা করে পুনর্গঠনের সুযোগ এনে দেয়।

বলশেভিক সরকার জাতীয়করণ, জমি সংস্কার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠন, নারীসমতা এবং জনগণের জন্য সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্রথমবারের মতো শ্রমিক শ্রেণী রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতে শুরু করে। এ ছিল ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনা—যেখানে রাষ্ট্র আর দমনযন্ত্র নয়, বরং শ্রমিক শ্রেণীর হাতিয়ারে পরিণত হয়ে

গৃহযুদ্ধ, লাল বাহিনীর সংগঠন ও ট্রটস্কির নেতৃত্ব

বিপ্লবের পরপরই রাশিয়ার উপর নেমে আসে গৃহযুদ্ধের দুঃস্বপ্ন। “সাদা বাহিনী”—অর্থাৎ রাজতান্ত্রিক, বুর্জোয়া ও বিদেশি হস্তক্ষেপকারীরা বিপ্লবকে ধ্বংস করতে এগিয়ে আসে। তখন রাষ্ট্রের ভাগ্য নির্ভর করছিল এক সংগঠিত সামরিক শক্তির ওপর। এই পর্যায়ে ট্রটস্কি ছিলেন লাল বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সংগঠক।

ট্রটস্কি সামরিক প্রতিভার সঙ্গে শৃঙ্খলা, মনোবল ও বিপ্লবী স্পিরিটকে একীভূত করেন। তিনি রেলগাড়িতে করে ফ্রন্ট থেকে ফ্রন্টে ঘুরে সৈন্যদের উজ্জীবিত করতেন। তিনি বলতেন—“যে নিজের শ্রমিক রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে জানে না, সে সমাজতন্ত্র রক্ষা করতে পারবে না।” তাঁর নেতৃত্বেই লাল বাহিনী ১৯২০ সালের মধ্যে সাদা বাহিনী ও বিদেশি হস্তক্ষেপকারীদের পরাজিত করে।

এই গৃহযুদ্ধের বিজয়ে ট্রটস্কির সংগঠন দক্ষতা ও আত্মত্যাগ ছিল অনন্য। লেনিন নিজে তাঁকে “বিপ্লবের তলোয়ার” বলে অভিহিত করেছিলেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও বিপ্লবের বৈশ্বিক প্রভাব

অক্টোবর বিপ্লব কেবল রাশিয়ার সীমা পেরিয়ে যায়নি; এটি পুরো বিশ্বের শোষিত ও নিপীড়িত মানুষের কাছে ছিল এক আশার বার্তা। মার্ক্সের তত্ত্ব বাস্তবে প্রমাণিত হয়—শ্রমিক শ্রেণী রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে পারে। ইউরোপে জার্মানি, হাঙ্গেরি, ইতালি, পোল্যান্ডে বিপ্লবী আন্দোলন জেগে ওঠে। এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় উপনিবেশবিরোধী সংগ্রাম নতুন অনুপ্রেরণা পায়।

বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের বহু বিপ্লবী তখন এই বিপ্লবের খবর পেয়ে নতুন পথ খুঁজে পান—মানবমুক্তির পথ।

লেনিন ও ট্রটস্কির নেতৃত্বে গঠিত হয় কমিন্টার্ন (Communist International)—যা আন্তর্জাতিক বিপ্লবের সংগঠন। এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয়। এভাবেই অক্টোবর বিপ্লব বিশ্ববিপ্লবের সূচক হয়ে ওঠে।

লেনিন-ট্রটস্কি সম্পর্ক ও পরবর্তী বিতর্ক

লেনিন ও ট্রটস্কির মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য ছিল বিপ্লবের সময় গভীর, যদিও পূর্বে তাদের মধ্যে মতভেদ ছিল। লেনিন সংগঠনগত কেন্দ্রীকরণের পক্ষপাতী ছিলেন, আর ট্রটস্কি ছিলেন প্রথমদিকে কিছুটা সমালোচক। কিন্তু ১৯১৭ সালে বাস্তব পরিস্থিতি তাদের ঐক্যবদ্ধ করে। লেনিন বলেন, “ট্রটস্কি বুঝে নিয়েছেন যে বলশেভিক পার্টি ছাড়া বিপ্লব অসম্ভব।”

তবে লেনিনের মৃত্যুর পর (১৯২৪) পার্টির অভ্যন্তরে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। স্তালিন প্রশাসনিক শক্তি দখল করেন, আর ট্রটস্কিকে পরবর্তীতে নির্বাসিত করা হয়। কিন্তু ইতিহাসের দৃষ্টিতে ট্রটস্কি ছিলেন বিপ্লবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংগঠক, তাত্ত্বিক ও সামরিক কৌশলবিদ। তাঁর “অবিরত বিপ্লব” তত্ত্ব পরবর্তীকালে চীন, কিউবা ও ভিয়েতনামের বিপ্লবেও প্রতিফলিত হয়।

ট্রটস্কি পরবর্তীতে বলেন—“রাশিয়ায় সমাজতন্ত্র বিকৃত হয়েছে, কিন্তু বিপ্লবের আদর্শ অমর।” তাঁর হত্যাকাণ্ড (১৯৪০, মেক্সিকো) বিশ্ববিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়, কিন্তু তাঁর চিন্তা আজও প্রাসঙ্গিক।

বিপ্লবের ঐতিহাসিক শিক্ষা ও উত্তরাধিকার

অক্টোবর বিপ্লব আমাদের শেখায়—

১. রাষ্ট্রক্ষমতা দখল না করলে মুক্তি অসম্ভব।

২. শ্রমিক শ্রেণীর ঐক্য ও রাজনৈতিক দলই বিপ্লবের কেন্দ্রীয় শর্ত।

৩. বিপ্লব কেবল একটি দেশে সীমিত নয়; এর আন্তর্জাতিক চরিত্র রয়েছে।

৪. বিপ্লবের পর রাষ্ট্রকে রক্ষা করা, পুনর্গঠন করা, ও সমাজতান্ত্রিক নীতি অনুসারে পুনর্বিন্যাস করা—এটাই শ্রেণীসংগ্রামের ধারাবাহিক রূপ।

আজকের পুঁজিবাদী সংকট, বৈশ্বিক অসমতা, যুদ্ধ ও পরিবেশ ধ্বংসের যুগে অক্টোবর বিপ্লবের শিক্ষা আবারও প্রাসঙ্গিক। ট্রটস্কির মতো নেতারা দেখিয়েছেন—বিপ্লব কেবল স্লোগান নয়, এটি বিজ্ঞান, সংগঠন ও আত্মত্যাগের সম্মিলন।

উপসংহার:

মহান অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব মানব ইতিহাসের এক উজ্জ্বল সূর্যোদয়। এটি প্রমাণ করেছিল—শ্রমিক শ্রেণী কেবল উৎপাদন করে না, তারা রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে; তারা নতুন সভ্যতা নির্মাণের ক্ষমতা রাখে। লেনিন ছিলেন এই বিপ্লবের মস্তিষ্ক, ট্রটস্কি ছিলেন এর হৃদয় ও তলোয়ার।

অক্টোবর বিপ্লবের উত্তরাধিকার আজও জীবিত—কিউবা, ভিয়েতনাম, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকার মুক্তিসংগ্রাম, কিংবা বাংলাদেশের কৃষক আন্দোলনের ভেতরেও আমরা সেই আদর্শের প্রতিধ্বনি শুনতে পাই।

যেমন ট্রটস্কি একবার বলেছিলেন—

 “তোমরা হয়তো আমাকে হত্যা করবে, কিন্তু তোমরা ইতিহাসকে হত্যা করতে পারবে না। অক্টোবর বিপ্লবের আলো পৃথিবীর প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে পড়বে।”

আজও সেই আলো মানবমুক্তির পথ দেখায়।

অক্টোবর বিপ্লব কেবল অতীত নয়—এটি ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি।

বদরুল আলম

৭ নভেম্বর ২০২৫ 

ঢাকা

Loading

The post মহান অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ও লিওন ট্রটস্কির ভূমিকা appeared first on Asia Commune.

]]>
https://asiacommune.org/2025/08/29/9903/ Fri, 29 Aug 2025 22:45:24 +0000 https://asiacommune.org/?p=9903 The post appeared first on Asia Commune.

]]>

Loading

The post appeared first on Asia Commune.

]]>
https://asiacommune.org/2025/08/21/9799/ Thu, 21 Aug 2025 22:27:38 +0000 https://asiacommune.org/?p=9799 BY Rahul Amin – Bangaladesh

The post appeared first on Asia Commune.

]]>

BY Rahul Amin – Bangaladesh

Loading

The post appeared first on Asia Commune.

]]>
শ্রমিকদের পাওনার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখী মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ https://asiacommune.org/2025/08/21/%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87/ Thu, 21 Aug 2025 22:22:04 +0000 https://asiacommune.org/?p=9796 গাজীপুরের স্টাইল ক্রাফট ও ইয়াং ওয়ানস গার্মেন্ট শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখী মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় পুলিশের হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন। আজ বুধবার প্রেসক্লাবের সামনের এলাকায়ছবি: সংগৃহীত গাজীপুরের স্টাইল ক্রাফট ও ইয়াং ওয়ানস গার্মেন্ট শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখী মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। আজ বুধবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ শেষে স্মারকলিপি দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় লাঠিচার্জ করে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। পুলিশের লাঠিচার্জে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন…

The post শ্রমিকদের পাওনার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখী মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ appeared first on Asia Commune.

]]>

গাজীপুরের স্টাইল ক্রাফট ও ইয়াং ওয়ানস গার্মেন্ট শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখী মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় পুলিশের হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন। আজ বুধবার প্রেসক্লাবের সামনের এলাকায়ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের স্টাইল ক্রাফট ও ইয়াং ওয়ানস গার্মেন্ট শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখী মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। আজ বুধবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ শেষে স্মারকলিপি দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় লাঠিচার্জ করে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।

পুলিশের লাঠিচার্জে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, গাজীপুর জেলার সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জালাল হাওলাদারসহ অন্তত ৩০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। সিপিবির সভাপতি মো. শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যখন চুক্তিভঙ্গকারী মালিকদের গ্রেপ্তার করে শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা, তখন শ্রমিকদের ওপরই বর্বর হামলা চালানো হয়েছে। অবিলম্বে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন সিপিবির নেতারা।

গাজীপুরের স্টাইল ক্রাফট ও ইয়াং ওয়ানস গার্মেন্ট শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখী মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। আজ বুধবার প্রেসক্লাবের সামনের এলাকায়

গাজীপুরের স্টাইল ক্রাফট ও ইয়াং ওয়ানস গার্মেন্ট শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখী মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। আজ বুধবার প্রেসক্লাবের সামনের এলাকায়ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র জানায়, স্টাইল ক্রাফট ও ইয়াং ওয়ানস গার্মেন্ট শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে গত ২৫ জুলাই শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়। সে অনুযায়ী ৭৬৩ জন শ্রমিককে চার কিস্তিতে পাওনা পরিশোধ করার কথা। কিন্তু প্রথম কিস্তিতে চুক্তি ভঙ্গ করে ৩০৩ জন শ্রমিককে পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। শ্রমিকেরা যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ গত ৩১ জুলাই পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দেয়। পরে সেই আশ্বাসও বাস্তবায়ন না করে তারা ষড়যন্ত্র করছে।

শ্রমিকেরা বাধ্য হয়ে আন্দোলন করছেন উল্লেখ করে সংগঠনটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের পাওনা আদায়ে চুক্তিভঙ্গকারী মালিককে গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রয়োজনে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে মার্চ টু যমুনা, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

SOURCE:

https://www.prothomalo.com

Loading

The post শ্রমিকদের পাওনার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখী মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ appeared first on Asia Commune.

]]>
युद्ध और हथियारों की होड़ का मानवाधिकारों पर घातक असर https://asiacommune.org/2024/12/12/%e0%a4%af%e0%a5%81%e0%a4%a6%e0%a5%8d%e0%a4%a7-%e0%a4%94%e0%a4%b0-%e0%a4%b9%e0%a4%a5%e0%a4%bf%e0%a4%af%e0%a4%be%e0%a4%b0%e0%a5%8b%e0%a4%82-%e0%a4%95%e0%a5%80-%e0%a4%b9%e0%a5%8b%e0%a4%a1%e0%a4%bc/ Thu, 12 Dec 2024 15:31:54 +0000 https://asiacommune.org/?p=8335 डी.एस.पालीवाल उद‌यपुर। अमेरिकी महाशक्ति की अर्थव्यवस्था युद्ध और हथियारों की होड़ पर निर्भर है तथा संयुक्त राष्ट्रसंघ साम्राज्यवादियों की कठपुतली बन गया है। ये विचार विश्व मानवाधिकार दिवस पर आयोजित पी.यू. सी. एल, जास तथा आम नागरिक व जनसंगठनों के साझा मंच की संयुक्त बैठक में उभरे। आम बैठक में मध्यपूर्व के फिलीस्तीन, लेबनान तथा युद्धरत देशों में मरने वाले आम नागरिक, महिलाओं और बच्चों के मानाधिकार का सवाल उठाया और सभी देशों में उभरते फासीवाद के खतरे की तरफ आगाह किया। सभा में रमेश नंद‌वाना ने कहा कि जन…

The post युद्ध और हथियारों की होड़ का मानवाधिकारों पर घातक असर appeared first on Asia Commune.

]]>

डी.एस.पालीवाल

उद‌यपुर। अमेरिकी महाशक्ति की अर्थव्यवस्था युद्ध और हथियारों की होड़ पर निर्भर है तथा संयुक्त राष्ट्रसंघ साम्राज्यवादियों की कठपुतली बन गया है। ये विचार विश्व मानवाधिकार दिवस पर आयोजित पी.यू. सी. एल, जास तथा आम नागरिक व जनसंगठनों के साझा मंच की संयुक्त बैठक में उभरे।

आम बैठक में मध्यपूर्व के फिलीस्तीन, लेबनान तथा युद्धरत देशों में मरने वाले आम नागरिक, महिलाओं और बच्चों के मानाधिकार का सवाल उठाया और सभी देशों में उभरते फासीवाद के खतरे की तरफ आगाह किया।

सभा में रमेश नंद‌वाना ने कहा कि जन विरोधी राजनीति ने इंसान-इंसान में भेद पैदा कर दिये है और घर परिवार तथा समाज में भी मानवाधिकार का हनन जारी है। उन्होंने जननोत्रिक मुल्यों के साथ ही वैज्ञानिक सोच की आवश्यकता बताई।

पी-यू.सी.एल के एडवोकेट अरुण व्यास ने मानवाधिकार दिवस का इतिहास बताया तथा बढ़ती हुई हिंसक संस्कृति के बारे में चिन्ता व्यक्त की और कहा कि सामन्ती व्यवस्था में संवाद‌विहिनता पैदा हो गई है। व्यास ने कहा कि फिलीस्तीन में नरसंहार हो रहा है और संयुक्त राष्ट्र संघ की सुरक्षा परिषद का व्यवहार नकारात्मक साबित हो रहा है।

जनतांत्रिक अधिकार सुरक्षा संगठन के समीर बनर्जी ने सभी देशों के शासकों की तानाशाही के बारे में बोलते हुए मजदूर, किसान एवं महिलाओं व बच्चों के जनतांत्रिक अधिकारों के बारे में जागरूकता फैलाने की आवश्यकता बताई।

एडवोकेट रूपाली जैन ने कहा कि जन्म से ही मानवाधिकारों का सवाल पैदा हो जाता है। उन्होंने विश्व परिस्थितियों पर चर्चा करते हुए विश्व में तीसरे विश्वयुद्ध के खतरे की तरफ इशारा किया।

वरीष्ठ पत्रकार हिम्मत सेठ ने बांग्लादेश के संकट पर बोलते हुए लोकतंत्र की दुहाई देने वाले अमेरिका में भी अब तक काले-गोरे के भेद के बारे में बताया और कहा कि अमेरिका की युद्ध अर्थव्यवस्था है तथा वो सम्पूर्ण पृथ्वी पर अपनी हुकुमत कायम करने के लिए षड्‌यंत्र करता रहा है।

सभा जनवादी मजदूर यूनियन के जयंती लाल मीणा ने राजतिलक और महाराणा की पद‌वियों को संविधान विरोधी बताया। मीणा ने स्कूलों में अध्यापकों के खाली पदो को बालकों के अधिकार पर हमला बताया तथा राजस्थान में एक लाख कुक कम हेल्परो की अति अल्प तनख्वाह और मजदूरों के बारह-बारह घंटे काम को भी अमानवीय बताया।

भ्रष्टाचार मुक्त भारत के हरीश सुहालका ने डेढ़ लाख वित्तीय सोसायटियों के जमाकर्ताओं के हक का उदाहरण दिया। कामरेड महेश शर्मा ने पूंजीवादी तंत्र को मानव विरोधी बताया और कहा कि सबको समान अवसर की लडाई तेज करनी पड़ेगी ।

साझा मंच के मन्नाराम डांगी ने विश्व की 8 अरब जनता पर मंडराते पर्यावरण खतरे के प्रति आगाह किया और कहा कि सम्पूर्ण तंत्र दोगला व्यवहार कर रहा है। उन्होंने 5 देशों के विटो पावर को समाप्त करने की मांग की तथा पूरी वैश्विक व्यवस्था को गांव से लेकर विश्वस्तर तक पुर्नसंगठित कर जनपक्षीय व जनतांत्रिक बनाने का लक्ष्य लेकर चलना पडेगा।

भाकपा (माले) के शंकरलाल चौधरी ने वैश्विक संकट पर विस्तार से चर्चा करते हुए देश में फैल रही साम्प्रदायिक‌ता और फासीवादी हमलों की चुनौतियों पर बोलते हुए उत्पिडितों के पक्ष में खड़े होकर सडक से संसद तक लडाई लड़‌ने की आवश्यकता बताई।

आम बैठक में एड‌वोकेट श्रेष्ठ वीर सिंह, बाईकर अवानी अरोडा ने भी विचार रखे। सभा का संचालन मन्नाराम डांगी ने किया।

Source bu www.mewarexpress.com

Loading

The post युद्ध और हथियारों की होड़ का मानवाधिकारों पर घातक असर appeared first on Asia Commune.

]]>
বাবুরাম সাপুড়ের ছোট ভাই বেচারাম https://asiacommune.org/2024/06/06/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a7%8b%e0%a6%9f-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%87/ Thu, 06 Jun 2024 16:40:04 +0000 https://asiacommune.org/?p=7408 বাবুরাম সাপুড়ের ছোট ভাই বেচারাম দুটি সাপ পুষতেই ঝরে তার কালঘাম দুধ কলা খেতে দিলে ওসব খায় না ভারতীয় রেল খাবে করে রোজ বায়না ব্যাঙ্ক বীমা খেতে চায় কয়লার খনি বেচারাম সাপুড়ের নয়নের মণি । By Arabinda Chakkaraborty.

The post বাবুরাম সাপুড়ের ছোট ভাই বেচারাম appeared first on Asia Commune.

]]>

বাবুরাম সাপুড়ের

ছোট ভাই বেচারাম

দুটি সাপ পুষতেই

ঝরে তার কালঘাম

দুধ কলা খেতে দিলে

ওসব খায় না

ভারতীয় রেল খাবে

করে রোজ বায়না

ব্যাঙ্ক বীমা খেতে চায়

কয়লার খনি

বেচারাম সাপুড়ের

নয়নের মণি ।

By Arabinda Chakkaraborty.

Loading

The post বাবুরাম সাপুড়ের ছোট ভাই বেচারাম appeared first on Asia Commune.

]]>
শুভ জন্মদিন কমরেড কার্ল হেনরি মার্কস!!! https://asiacommune.org/2024/05/09/%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%ad-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%a1-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b2-%e0%a6%b9/ Thu, 09 May 2024 17:14:13 +0000 https://asiacommune.org/?p=7204 5 মে, কার্ল হেনরি মার্কস রাইন প্রদেশের (GERMAN) TRIR-এ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রুশিয়া-জার্মান দার্শনিক, সমাজবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, লেখক, কবি, রাজনৈতিক সাংবাদিক, ভাষাবিদ, পাবলিক ফিগার, ইতিহাসবিদ। সবচেয়ে বিখ্যাত রচনাগুলি হল কমিউনিস্ট পার্টির ম্যানিফেস্টো (ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের সহ-লেখকত্বে 1848) এবং রাজনৈতিক অর্থনীতির ‘ক্যাপিটাল’ সমালোচনা (1867-1883)। মার্ক্সের রাজনৈতিক ও দার্শনিক যদিও পরবর্তী বুদ্ধিবৃত্তিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। মার্কস প্রমাণ করেছেন যে প্রতিটি পর্যায়ে মানবসমাজ বিকশিত হচ্ছে শ্রেণী সংগ্রামের ফলে বিভিন্ন জনশ্রেণীর স্বার্থের দ্বন্দ্বের ফলে। মূল বিষয় হল উৎপাদনের উপায়ের মালিক এবং ভাড়াটে শ্রমিকদের মজুরির বিনিময়ে তাদের শ্রমশক্তি বিক্রির মধ্যে দ্বন্দ্ব। একই সময়ে…

The post শুভ জন্মদিন কমরেড কার্ল হেনরি মার্কস!!! appeared first on Asia Commune.

]]>

5 মে, কার্ল হেনরি মার্কস রাইন প্রদেশের (GERMAN) TRIR-এ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রুশিয়া-জার্মান দার্শনিক,

সমাজবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, লেখক, কবি, রাজনৈতিক সাংবাদিক, ভাষাবিদ, পাবলিক ফিগার, ইতিহাসবিদ।

সবচেয়ে বিখ্যাত রচনাগুলি হল কমিউনিস্ট পার্টির ম্যানিফেস্টো (ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের সহ-লেখকত্বে 1848) এবং রাজনৈতিক অর্থনীতির ‘ক্যাপিটাল’ সমালোচনা (1867-1883)। মার্ক্সের রাজনৈতিক ও দার্শনিক যদিও পরবর্তী বুদ্ধিবৃত্তিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।

মার্কস প্রমাণ করেছেন যে প্রতিটি পর্যায়ে মানবসমাজ বিকশিত হচ্ছে শ্রেণী সংগ্রামের ফলে বিভিন্ন জনশ্রেণীর স্বার্থের দ্বন্দ্বের ফলে।

মূল বিষয় হল উৎপাদনের উপায়ের মালিক এবং ভাড়াটে শ্রমিকদের মজুরির বিনিময়ে তাদের শ্রমশক্তি বিক্রির মধ্যে দ্বন্দ্ব। একই সময়ে প্রতিটি যুগই ঐতিহাসিকভাবে, যা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সময়ের সাথে সাথে উত্থিত এবং অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে।

পুঁজিবাদ অন্যান্য আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার মতো, এতে রয়েছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব যা এটিকে সর্বহারা বিপ্লবের মাধ্যমে নতুন ব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপন করবে।

মার্কসের কাজের উপর ভিত্তি করে নিম্নলিখিত নির্দেশাবলী উপস্থিত হয়েছিল।

  • দর্শনে

দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ (হেগালের দর্শনের বস্তুবাদী ব্যাখ্যা)

  • সামাজিক ও মানবিক বিজ্ঞানে

ঐতিহাসিক বস্তুবাদ (বিশ্ব ইতিহাসের বস্তুগত উপলব্ধি

  • অর্থনীতিতে

পণ্যের শ্রমশক্তি এবং উদ্বৃত্ত মূল্যের ধারণার ব্যয়ের শ্রম তত্ত্বের সংযোজন।

  • সামাজিক অনুশীলন এবং আধুনিক সামাজিক ও মানবিক বিজ্ঞানে

বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র, শ্রেণী সংগ্রামের তত্ত্ব

আজ বিশ্বব্যাপী অনেক রাজনৈতিক দল এবং গোষ্ঠী মার্ক্সের ধারণাগুলিকে সংশোধন বা অভিযোজিত করেছে।

তদুপরি, কার্ল মার্কস বর্ণনা করেছেন “আধুনিক সমাজে শ্রেণীগুলির অস্তিত্ব বা তাদের মধ্যে সংগ্রামের বিষয়টি আমি আবিষ্কার করেছি বলে দাবি করি না”

আমার অনেক আগে, বুর্জোয়া ইতিহাসবিদরা তাদের অর্থনৈতিক শারীরবৃত্তিতে এই লড়াইয়ের ঐতিহাসিক বিকাশের বর্ণনা দিয়েছিলেন।

আমার নিজের অবদান ছিল,

  • দেখানো যে শ্রেণীগুলির অস্তিত্ব কেবলমাত্র উৎপাদনের বিকাশের কিছু ঐতিহাসিক পর্যায়গুলির সাথে আবদ্ধ।
  • যে শ্রেণী সংগ্রাম অগত্যা সর্বহারা শ্রেণীর একনায়কত্বের দিকে নিয়ে যায়।
  • এই স্বৈরাচার নিজেই সমস্ত শ্রেণীর বিলুপ্তি এবং একটি শ্রেণীহীন সমাজে রূপান্তর ছাড়া আর কিছুই নয়।

এশিয়া কমিউনি

Asiacommune.org

asiacommune22@gmail.com

00 33 6 52 12 44 84

Loading

The post শুভ জন্মদিন কমরেড কার্ল হেনরি মার্কস!!! appeared first on Asia Commune.

]]>
বিপ্লবের পথে লেখক : দিলিপ কুমার । https://asiacommune.org/2024/05/06/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%a5%e0%a7%87-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%95-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%aa-%e0%a6%95/ Mon, 06 May 2024 16:28:52 +0000 https://asiacommune.org/?p=7136  আমি শুনতে পাচ্ছি ,  বিপ্লবীদের পায়ের শব্দ । দুর্বার গতিতে এগিয়ে আসছে । শুকনো পাতার মর মর শব্দ, কমরেডদের জানান দিচ্ছে । এযে নতুন রুপে,নতুন সাজে ,নতুন ভাবে র‍্যালি  নিয়ে রাজপথে আসছে ।  আমি দেখেছি পাহাড়,পর্বত  গ্রামে গন্জে ,লালে লাল পতাকা ।নতুন করে সেজে আসছে — তাদের চোখে মুখে বিপ্লবের পদ- ধ্বনি । কৃষক,শ্রমিক,মেহনতিদের চোখে মুখে কোন ক্লান্তি নেই ।  তাদের মনে একটি আকাংখ্যা বিপ্লবের বিজয়ের ধ্বনি । এই লাল পতাকাই তাদের শোষণ ,বন্চনার হাত থেকে মুক্তির পথ দেখাবে । তাদের প্রতিঙ্গা এই লাল পতাকা তারা উর্ধ্বে উঠাবেই । By…

The post বিপ্লবের পথে লেখক : দিলিপ কুমার । appeared first on Asia Commune.

]]>

 আমি শুনতে পাচ্ছি ,

 বিপ্লবীদের পায়ের শব্দ ।

দুর্বার গতিতে এগিয়ে আসছে ।

শুকনো পাতার মর মর শব্দ, কমরেডদের জানান দিচ্ছে ।

এযে নতুন রুপে,নতুন সাজে ,নতুন ভাবে র‍্যালি

 নিয়ে রাজপথে আসছে ।

 আমি দেখেছি পাহাড়,পর্বত 

গ্রামে গন্জে ,লালে লাল পতাকা ।নতুন করে সেজে আসছে —

তাদের চোখে মুখে বিপ্লবের পদ- ধ্বনি ।

কৃষক,শ্রমিক,মেহনতিদের চোখে মুখে কোন ক্লান্তি নেই । 

তাদের মনে একটি আকাংখ্যা বিপ্লবের বিজয়ের ধ্বনি ।

এই লাল পতাকাই তাদের শোষণ

,বন্চনার হাত থেকে মুক্তির পথ দেখাবে ।

তাদের প্রতিঙ্গা এই লাল পতাকা তারা উর্ধ্বে উঠাবেই ।

By Dulip kumar

Loading

The post বিপ্লবের পথে লেখক : দিলিপ কুমার । appeared first on Asia Commune.

]]>